মোঃ রবিউল ইসলাম হৃদয়, কুষ্টিয়া : কুমারখালী উপজেলার ছেউরিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কালিগঙ্গা আবার ফিরে পাচ্ছে তার প্রতিবন্ধকতা, পানি প্রবাহের গতি। কুষ্টিয়া গড়াই নদীর থেকে এর উৎপত্তিস্থল। যেটি বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় অপসারণ ও পানি প্রবাহের মুখটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। গড়াই নদী থেকে মহা শ্মশানের পাশ দিয়ে কালিগঙ্গার উৎসমুখ বয়ে গেছে।
বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের সভাপতি খলিলুর রহমানের মজু, সেক্রেটারি এবং দলের সদস্যদের বিভিন্ন সভা সমাবেশ ও আন্দোলন করেন।তাদের দাবী- বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তুলে ধরেন। নদী কে প্রশস্ত করতে হবে, কালীগঙ্গা কে আবার নতুন রূপে জাগিয়ে তুলতে হবে। ঐতিহ্যবাহী কালিগঙ্গা ফিরে পাক তার নিজস্ব গতি।জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর তাদের অভিযোগটি তুলে ধরেন এই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দরা।
নদী বাঁচলে বাঁচবে দেশ- ‘নদী বাঁচাও ,দেশ বাঁচাও’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন সময় নদী পরিব্রাজক দল নদীর বর্জ্য অপসারণ ও নদীর দখলমুক্ত করার দাবিতে কাজ করে গেছেন। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুরুল আহমেদ চৌধুরী, পরিচালক ড.কবিরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া ৪-আসনের এমপি সেলিম আলতাফ জর্জ ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ সাইদুল ইসলামের প্রস্তাবনায় সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক লালন শাহ মাজার খাল খনন করে ৯০ মিটার প্রশস্ত সেতু স্থাপন করে নদীটি চওড়া করা হবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক শীঘ্রই লালন শাহ মাজার সংলগ্ন লালন খাল রেগুলেটর ভেঙ্গে সেখানে ৯০ মিটার একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হবে সেটি প্রস্তাবিত।গড়াই নদীর উৎস মুখ থেকে নদী খনন হবে কিনা/উৎসমুখটি কোন দিক থেকে বের হবে সেটি অপ্রস্তাবিত। ৯০ মিটার সেতু করার জন্য নদী  খনন করে চওরা করা হবে এবং দুই পাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে।  তবে আগামীতে এটি খননের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, এ নদীটি একসময় খরস্রোতা ছিল ৩৫ কিলোমিটার জুড়ে । সেখান থেকে আরো আটটি নদী প্রবাহিত হয়েছে। ১৮৭০ সালে, ব্রিটিশ সরকার বাধ তৈরি করে রেললাইন নির্মাণ করে এবং বাঁধের পাশে মহাসড়ক স্থাপন করা হয়েছে ।পরবর্তীতে বাড়িঘর, স্থাপনা তৈরি হয়ে কালিগঙ্গা ভরাট হয়ে গেছে এবং লালন খাল সংলগ্ন কচুরিপানা, বর্জ্য আবর্জনায় নদীটি এখন গতিপথ হারিয়েছে।
যে নদীতে (কালিগঙ্গা) বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ কলার ভেলায় ভেসে এসেছিলেন লালন আখড়া বাড়িতে। যেখানে তার সমাধিস্থ করা হয়েছে। এরপর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নের -২০১০-১১ ইং ২ ভেল্ট ১.৫০ মি:×১.৮০ লালন শাহ মাজার খাল রেগুলেটরটি স্থাপন করা হয়।এখান থেকে পানি প্রবাহের মুখটি প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের দেয়া তথ্য মতে।বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল ও এলাকা বাসির দাবি-কালিগঙ্গার নামটি অবিস্মরণীয় হয়ে থাক। নদীটি ফিরে পাক ঐতিহ্য ও গতিপথ।