কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় একের পর এক হত্যাকান্ড সংঘঠিত হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এ উপজেলার সাধারণ মানুষ। গত ২ মাসে ১০টি খুনের ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র এ সকল হত্যাকান্ড সংঘঠিত করছে বলে সাধারণ মানুষের ধারণা। তাই তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছেন।
এ সকল হত্যাকান্ডের বিষয়ে বর্তমান ও সাবেক এমপি‘র পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধোয়াশার জন্ম দিয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বলয় সৃষ্টির জন্য আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারীরা হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে বলে তৃণমুল নেতাকর্মীরা মনে করছেন।
গত ২১জুন সন্ধ্যায় মথুরাপুর ইউপির বাগোয়ান এলাকার টেনশন মোড় নামক স্থানে বাগোয়ান গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন ঝন্টু কামারের ছেলে রিন্টু হোসেন ওরফে বাটুল (৩৫) নামে এক যুবককে প্রতিপক্ষ স্থানীয় বিএনপি নেতা হাসিব মেম্বারের লোকজন কুপিয়ে হত্যা করেছে।
১৪ জুন বুধবার গরুতে পাটক্ষেত খাওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলার মরিচা ইউপির ভুরকাপাড়া গ্রামের হাটখোলাপাড়া এলাকায় প্রতিপক্ষ এক সময়ের বিএনপি ক্যাডার বর্তমানে শ্রমিকলীগ নেতা উজ্জল সর্দার গ্রুপের হামলায় বজলু মালিথা (৪২) ও ভেলশ মালিথা (৪৩) নামে দুই কৃষক নিহত হন।
গত ১০ জুন আড়িয়া ইউপির পাককোলা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভাতিজার হাতে চাচা মাহাফুজুল হক এরেন (৬৫) নিহত হয়েছে।
গত ২৭ এপ্রিল চিলমারী ইউপির বাজারপাড়া এলাকায় বিএনপি নেতা জলিল খাঁ রাস্তা বানাতে তার মাত্র এক শতাংশ জমি না দেবার জন্য কৌশলে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীকে সাথে করে মন্ডল গ্রপের লোকজনের উপর হামলা করে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে ৩ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করে। প্রায় ২৫ জন আহত হয়।
গত ১ লা মে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউপির সোনাইকুন্ডি উত্তর পাড়া এলাকায় একটি বাঁশবাগানে নুর ইসলাম নামে প্রতিবন্ধি ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যায়।
২ মে সাহাপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক সময়ের বিএনপির ক্যাডার জাকির মোল্লা নামের একজন নিহত হয়। এ ঘটনায় ভিন্ন এলাকার বেশ কিছু আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়।
একই দিন বিকেলে মরিচা ইউপির বৈরাগীর চর মন্ডলপাড়া এলাকা থেকে বালুচাপা অবস্থায় মারুফ হোসেন (৩৩) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জর্জ আদালতের আইনজীবি এ্যাড: সিরাজ প্রামানিক বলেন, এলাকায় কোন দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। তা প্রতিরোধের জন্য রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা আছে। দৌলতপুরের এই পরিস্থিতি আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির কারণেই ঘটছে বলে তিনি মনে করেন।
দৌলতপুর থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, থানা পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যাকান্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং মানুষকে নিরাপত্তা দেবার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
একের পর এক হত্যাকান্ডে দৌলতপুরের সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেও এ সকল হত্যাকান্ড নিয়ে বর্তমান ও সাবেক এমপিদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ধোয়াশার জন্ম দিয়েছে।
সাবেক এমপি রেজাউল হক চৌধুরী জানান, মরিচার জোড়া খুনে দলে অনুপ্রবেশ কারী ও বর্তমান এমপি সরওয়ার জাহান বাদশা‘র ঘনিষ্ঠ সহচর উজ্জল সর্দার নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান এমপি‘র কাছে কোন দলীয় লোকজন যেতে পারেন না। বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারীরা তার পাশে ছায়ার মত অবস্থান করে। দৌলতপুরের বর্তমান অবস্থার জন্য তিনি এমপি সরওয়ার জাহান বাদশা দায়ী করেন।
এদিকে বর্তমান সংসদ সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশা জানান, ২০১৪ সালে বিদ্রোহী হিসাবে নির্বাচিত সাবেক এমপি রেজাউল হক চৌধুরীর উস্কানী মুলক বক্তব্যের কারণেই মরিচার হত্যাকান্ড ঘটেছে। আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানান।

Previous articleদৌলতপুরে জোড়া খুনের আসামীদের শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন
Next articleকুষ্টিয়ায় র‍্যাব অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন বালাইনাশক প্রতিষ্ঠাননে অভিযান