মোঃ রবিউল ইসলাম হৃদয় : কুষ্টিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একাধিক বিয়ে ও নারি দিয়ে ব্লাকমেইল করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের ভুয়া সাংবাদিক মোঃ চঞ্চল আলী(৩০) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। গ্রেফতারকৃত চঞ্চল কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া এলাকার মৃত রফিকুল ইসলাম আলমের ছেলে।

সোমবার (২৯ মে ২০২৩ ইং) র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার মোহাম্মদ ইলিয়াস খান এর নেতৃত্বে বিকাল ৬ টার সময় কুষ্টিয়া জেলার সদর থানাধীন সাদ্দাম বাজার এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সুত্রে জানা যায়, বিভিন্ন মিডিয়ার নাম দিয়ে সাংবাদিক সেজে মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের দেখাতেন মামলার ভয়। এভাবে প্রায় কমপক্ষে ১০ থেকে ২০ জন ব্যক্তির কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছিলেন বহু টাকা। চঞ্চল আলী (৩০) নামের এই ভুয়া সাংবাদিককে প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ খুজে বেড়াচ্ছিলো। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনসহ একাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে ভেড়ামারা উপজেলার শিল্পী ক্লিনিকের মালিককে মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অপরিচিত মেয়ের সাথে আপত্তিকর ছবি ধারণ করার হুমকি দিয়ে ২লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে প্রতারক চঞ্চল ও তার গ্যাং। ঐ ব্যক্তি মান সম্মানের ভয়ে চঞ্চলের কাছে ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন। বাকী টাকার জন্য শিল্পী ক্লিনিকের মালিক আশরাফুল ইসলামকে জোর করে একটি ১০০ টাকার ৬টি ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেয়। এটা করেও ক্ষান্ত হননি তিনি। ঐ মালিকের দুইটি মোটর সাইকেল কৌশলে নিয়ে যায়। ঘটনার বিষয়টি দৌলতপুর থানার পুলিশকে জানালে আল্লারদর্গা বাজারে একটি মোটর সাইকেলের পুরাতন শোরুমে সঠিকভাবে কাগজপত্র না দেখাতে পারলে পুলিশ ৫টি মোটর সাইকেল জব্দ করেন। পরে শিল্পী ক্লিনিকের মালিক নিজে বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় চঞ্চলকে এক নাম্বার আসামী করে তার ব্লাকমেইল চক্রের মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৫০, তারিখ-২৫ মে ২০২৩,ধারা-৪২০/৩২৩/৩৮৫/৩৮৬/৩৭৯/৪১১/৫০৬/১০৯ পেনাল কোড। মামলাটির বিষয়ে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখলে এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এছাড়া আরো সুত্রে জানা যায়, বেশকিছুদিন ধরে কুষ্টিয়ায় চঞ্চল প্রতারকের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হতে বসেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবার। পূর্বের একাধিক বিয়ের কথা গোপন রেখে ওই ব্যবসায়ীর মেয়ে সাথিকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে করে কথিত সংবাদকর্মী প্রতারক এম এ চঞ্চল। পরে যৌতুকের জন্য ধারবাহিক নির্যাতনের কারণে বাবার বাড়ি পালিয়ে যেতে বাধ্য হন সাথি। যৌতুক না পেয়ে চঞ্চল শ্বশুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ৫টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগি পরিবারটির। চঞ্চলের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া গ্রামে। পূর্বের একাধিক বিয়ের কথা গোপন করে তিনি দৌলতপুর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে সাথী আক্তার মলিকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে করেন ২০১৭ সালে। চঞ্চল বিয়ের সময় নিজেকে সংবাদকর্মী বলে পরিচয় দেন। পরে দাবিকৃত যৌতুক না পেয়ে একটি সন্তান হওয়ার পর সাথী ও তার সন্তানকে চঞ্চল অত্যাচার ও নির্যাতন করে কেবল বাড়ি ছাড়তেই বাধ্য করেননি তাকে শায়েস্তা করতে বাবা আব্দুর রাজ্জাকের নামে চঞ্চল ৫টি মিথ্যা মামলাও করেছেন আদালতে।

এদিকে সাথিকে বাড়ি ছাড়া করার পর আরও একটি বিয়ে করেছে বলে সাথির অভিযোগ। সাথি আক্তার মলি বলেন দীর্ঘদিন ধরে সাথি ও তার সন্তান বাবার বাড়িতে থাকলেও চঞ্চল তাদের খোঁজ নেন না। অন্যদিকে জামাইয়ের দেওয়া ৫ মামলায় বারবার আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে সর্বশান্ত হতে বসেছে আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবার। রাজ্জাকের অভিযোগ মামলা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করেছে চঞ্চল।