এম,সাইদুর রহমান-পটুয়াখালী: বাউফল সময় কাটানো কিংবা আনন্দ পেতে এক সময়ে লুডু খেলার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। বর্ষাকালে শহর কিংবা গ্রামাঞ্চলে ঘর থেকে বের হতে না পারলে পরিবার পরিজন নিয়ে লুডুর খেলার স্মৃতি হয়ত অনেকেই মনে করেন। লুডু খেলাটি তখন মা বাবা ভাই বোন এমনকি সকল শ্রেণির মানুষ নিয়ে খেলা হতো। এ খেলাটিতে ছিল না কোন শ্রেণি ভেদাভেদ। অথচ এই লুডু এখন জুয়ায় পরিণত হয়েছে।

এক সময়ে যে লুডু বোর্ড ছিল কাগজে তৈরি এখন সেই লুডু বোর্ড মোবাইলে সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে পাওয়া যায়। এ মোবাইলের মাধ্যমেই চলছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে এ ডিজিটাল জুয়া।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ্যান্ডরোয়েড মোবাইল ফোনে লুডু কিং নামে একটি সফ্টওয়্যার ইনস্টল করে সর্বচ্চ ৪-৮ জন মিলে এ লুডু খেলতে পারে। খেলার ধরন রয়েছে দুই প্রকার। একটি অনলাইনের মাধ্যমে অপরটি একটি মোবাইলে একই সাথে বসে খোলা যায়। তবে অনলাইন ছাড়া একই সাথে চার জনের খেলার প্রবানতা বেশি। অনলাইনে খেলতে গেলে একজন অপরজনদের ইনভাইট করে খেলার জন্য।

অপরদিক থেকে ইনভাইটে সারা দিলে শুরু হয় খেলা। সেখানে রয়েছে ম্যাসেজ লেনদেন করার সুবিধা। খেলাটি হয় গেইম প্রতি। চারজন মিলে খেললে এক একটি গেইম শেষ হতে সময় লাগে প্রায় ৩০মিনিট।

সুত্রে জানা গেছে, প্রতি গেমে বাজি ধরা হয় ১শ ৫শ টাকা। কোন কোন ক্ষেত্রে টাকার পরিমান আরো বেশি হয়। তবে অনলাইনে খেলার ক্ষেত্রে জুয়ারীদের মধ্যে রয়েছে বিশ্বস্ততার সেতু বন্ধন। এরা একজন অপর জনের সাথে বেঈমানি করে না। লেনদেনের ক্ষেত্রে রয়েছে স্বচ্ছতা। পরিশোধ করা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জুয়াড়ি বলেন, তিনি পেশায় একজন মোটর সাইকেল চালক ছিলেন। এক সময় টাকা দিয়ে নিয়মিত মোবাইল ফোনে লুডুর মাধ্যমে জুয়া খেলতেন। খেলতে খেলতে এমন নেশা হয়েছে যে শেষ পর্যন্ত আরয়র উৎস মোটর সাইকেলটি তাও বিক্রি করে দিতে হয়েছে। এখন তিনি বর্তমানে বেকার জীবন যাপন করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী বাউফলের প্রায়ই বাসসন্টান্ড, মোটর সাইকেলসন্টান্ড ও লঞ্চঘাট এবং বাজারের আশেপাশে এলাকায় এ জুয়ার আসর বসে।

এ সকল স্পটে যারা লুডুর মাধ্যমে জুয়া খেলে তারা একটি মোবাইলের মাধ্যমে একই সাথে বসে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ জুয়ার সাথে শুধু গাড়িক চালক কিংবা শ্রমিক শ্রেণির মানুষ জড়িত না। এর সাথে জড়িয়ে পড়ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বেকার যুবকরা। উপজেলার কাছিপাড়া আব্দুর রশিদ মিয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক এএইচ এম মিরণ বলেন, এ সকল জুয়ারীরা যখন জুয়া সর্বস্ব হাড়িয়ে ফেলেন তখন তারা জড়িয়ে পড়ে সামাজিক নানা প্রকার অপরাধে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ধরনের জুয়া বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) এটিএম আরিচুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। কোন ভাবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।হাতে নাতে কাউকে ধরতে পারলে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে। তবে এর আগে পারিবারিক ভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে।