এবার সঞ্জুর কিলিং মিশনের তালিকায় ৪ ব্যবসায়ী : চলছে অস্ত্রের মহড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেটের সময়। রবিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৪১ টাইম ভিউ

কুষ্টিয়া শহরতলী বাড়াদী ১৬ নং ওয়ার্ড কমিশনার শীর্ষ চরমপন্থী সন্ত্রাসী আবু জাহিদ সঞ্জু এবার ৪ ব্যবসায়ীকে হত্যার কিলিং মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। সংগ্রহ করছে ভারী ও হালকা অস্ত্রসহ ধারালো অস্ত্র। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকারের ধারালো অস্ত্রশস্ত্র মজুদ করে এলাকায় মহড়া অব্যাহত রেখেছে। অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেওয়ার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। যে কোন মুহুর্তে ঠান্ডা মাথায় এই কিলিং মিশন পরিচালনা করা হবে বলে তার অনুগত মাদক ব্যবসায়ীরা জানায়। অস্ত্র ভান্ডারের দায়িত্ব পেয়েছেন কমিশনারের ভাই মাদক ব্যবসায়ী মঞ্জু আহমেদ। কমিশনারের মেঝ ভাই মাদক সম্রাট ঢাকার একাধিক মাদক মামলার আসামী রঞ্জু আহমেদ গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী নারী পুরুষদেরকে সংঘটিত করার দায়িত্বে রয়েছেন।
এই মাদক ব্যবসায়ীদের হাতেই নিহত হবে ওই ৪ ব্যবসায়ী। আর এক এক মাদক গ্রুপকে একএক জন নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এরা হলো মোল্লাপাড়ার মরহুম সদু দোকানদারের ছোট ছেলে তৌহিদুল ইসলাম, মোল্লাপাড়ার মৃত পলান মোল্লার ২ ছেলে, ভাগার মোড়ের রবজেল মন্ডলের ছেলে শরিফ মন্ডল, মৃত ইয়াকুব মন্ডলের ছেলে বাবুল ও সাহাবুল, মৃত ইব্রার ছেলে খাইরুল। নিহত হবার তালিকায় রয়েছেন বিশ্বনাথ সাহা বিশু, সাবেক কমিশনার হেলাল উদ্দিন, মৃত নায়েব মৌলভীর ২ ছেলে কামু ও ইউসুফ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক এক মাদক ব্যবসায়ী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কমিশনার সঞ্জু প্রকাশ্যে ঘোষনা করেছেন, যত টাকা লাগে সব টাকার যোগান দিবে সে। অস্ত্রশস্ত্রে যোগানও দিবে সে। তার হাত বহু লম্বা। পুলিশ প্রশাসন চলে সঞ্জুর কথায়। হত্যা করার পরে পুলিশ যাতে কাউকে আটক করতে না পারে সে দায়িত্বও তিনি নিয়েছে। অস্ত্রশস্ত্রগুলে মজুদ করা হচ্ছে কমিশনারের বাড়ী, অফিস, পুকুর পাড়ের পরিত্যাক্ত মাঠের ঝোপঝাড়ে ও আশপাশের বাড়ী গুলোতে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে এই পরিকল্পনা।
১৬ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় চরমপন্থি সন্ত্রাসী শীর্ষ চরমপন্থি ক্রসফাইয়ারে নিহত দাদা তপনের সহযোগী দাদা তপনের অস্ত্র ভান্ডার রক্ষাকারী বিএনপির শাসনামলে ক্রসফাইয়ারের আসামী ১৬ নং ওয়ার্ড কমিশনার আবু জাহিদ সঞ্জু ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায় সঞ্জু, রঞ্জু ও তার ছোট ভাই তনঞ্জু গত সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভাগার মোড়ে মৃত নায়েব মৌওলভীর ছেলে কামু ও ইউনুসের উপর চড়াও হয়। এ সময় ওই ২জন মালেকের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিল। ওই সন্ত্রাসীরা কামু ও ইউনুসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে গেলে তারা অস্ত্র ধরে টানা টানি শুরু করলে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের আঘাতেই সঞ্জু, রঞ্জু ও তঞ্জু আহত হয়। পরে খাইরুল এসে তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে গেলে নিজের অস্ত্রে খায়রুল আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এই ঘটনায় এলাকাবাসী বলেন, বারখাদা ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান খবির উদ্দিন আহম্মেদ এর ছেলে এ, কে, শওকত আলী হাবু তার বাড়ীর পাশের মৃত পদশার জমি জাল দলিল তৈরী করে। কিন্তু ওই জমি মৃত পদশার ছেলেরা বা সে নিজেই মৃত নায়েব আলী মৌওলভীর কাছে বিক্রি করেছেন। ওই সম্পত্তি প্রায় ৩০ বছর মৃত নায়েব আলী মৌওলভীর দখলে রেখে চাষ আবাদ করে আসছে। চরমপন্থি সন্ত্রাসী সঞ্জু কমিশনার হওয়ার পর হাবু কমিশনারের সহযোগীতায় ওই জমি জোরপূর্বক দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। তাতে তারা ব্যর্থ হলে ১৬ লাখ টাকা মৃত নায়েব আলী মৌওলভীর ছেলেদের কাছে তারা চাঁদা দাবী করে। টাকা না পেয়ে এর আগেও কামু, ইউনুস ও হাদীকে কমিশনারের নেতৃত্বে রঞ্জু গ্যাংরা মারপীট করে।

এ দিকে ভাগার মোড়ে জামান নামের এক যুবক জমি ক্রয় করে দ্বিতলা বাড়ী নির্মান করলে সেখানেও কমিশনার সঞ্জু বাধা হয়ে দাড়ায়। তাদের চার ভাইকে দোকান ঘর দেয়ার দাবী করে। জামান দোকান ঘর না দিলে তার বাড়ী ভাঙ্গার জন্য পায়তারা শুরু করে। আমিন নিয়ে এসে বলে তোর বাড়ী পৌর সভার জমির মধ্যে পৌরসভা থেকে তোর বাড়ী ভাঙাগা হবে। কমিশনারের চার ভাইয়ে অত্যাচারে বাড়ী গ্রামের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে। এক দিকে মাদক সরবরাহ করে মাদক ব্যবসা অবাধে পরিচালনা করা হচ্ছে অপর দিকে মাদক বিক্রি না করলে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে। এই চরম পন্থী সন্ত্রাসীর হাত থেকে গ্রাম বাসী বাঁচতে চায়। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ভয়ংকর দূর ঘটনা হঠবে যে কোন সময় বলে আশংকা করছে গ্রামবাসী।

বিষয়টি নিয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলমের সাথে মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জায়গা জমি নিয়ে ওই এলাকায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। জায়গা জমির ব্যাপার কোর্ট দেখবে। কোন রকম বিশৃঙ্খলা ঘটলে পুলিশ ব্যাবস্থা গ্রহন করবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর