সাংবাদিক অখিল পোদ্দারকে নিয়ে একতরফা অপপ্রচারে ব্যাস্ত ইলিয়াস

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আমিন হাসান
  • আপডেটের সময়। বুধবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১১৪ টাইম ভিউ

আমিন হাসানঃ ফেসবুক একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর এই মাধ্যমকে পুঁজি করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন সাংবাদিক ইলিয়াস খান গত ১৪ই ডিসেম্বর ইলিয়াস খান তার ফেসবুক পেজে একতরফা মুখস্ত বক্তব্যর ঝড় তুলেছেন তাও আবার নিজ সাবেক সহকর্মীর বিরুদ্ধে আর তিনি হলেন একুশে টিভির কর্মরত অখিল পোদ্দার। ইলিয়াস খান সাংবাদিক অখিল পোদ্দার এর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ও অনিয়মের কথা তুলে ধরেছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি দেশবাসীকে আরও জানান তিনি কোন রাজনৈতিক ইস্যু ও দলীয় একতরফা কথা কখনোই বলেননি। তবে ফেসবুক ও ইউটিউব ঘাটাঘাটি করে দেখা গিয়েছে তিনি শুধু একতরফা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলে গিয়েছেন। তবে দেশবাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে তাহলে কি তিনি একুশে টেলিভিশনে কি এখনো সম্পৃক্ত আছেন, না একুশে টেলিভিশন কে ডুবানোর আরেকটি নতুন পরিকল্পনা করছেন।

একুশে টি‌ভির প্রধান বার্তা সম্পাদক ড. অখিল পোদ্দার জানান, সাংবাদিক ইলিয়াস আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দ করেন না। তিনি আরো জানান, ইলিয়াস তার ফেসবুক পেজের মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালিয়েছেন সেটা এখন পর্যন্ত আমি দেখিনি আর দেখতেও চাইনা। আর এই বিষয় নিয়ে নিউজ না করাই ভালো কারণ তিনি যে প্লাটফর্মে অপপ্রচার চালিয়েছে সেটা কোন প্রতিষ্ঠান না।

 

মফস্বলে অনেক সাংবাদিক আছেন যারা সত্যি তথ্যটি তুলে ধরার জন্য ঘটনা স্থলে যান এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য মাঠ-ঘাট, গ্রাম্য, জনপদ চষে বেড়ান। সেই সব সাংবাদিকরা হল চারণ সাংবাদিক । ইলিয়াস আসলেই যদি একতরফা উপস্থাপনা সাংবাদিক হয় তাহলে সেটা সাংবাদিকতার মধ্যে পড়ে না। তিনি দেশের নানা খেতে নানা ধরণের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন কিন্তু তিনি কুষ্টিয়ার সেই রুবেল হত্যার কথা একবারও তুলে ধরেন নি। দেশকে নিয়ে ভাবতে হবে দেশের জনগণকে নিয়ে ভাবতে হবে এ কথায় তিনি ঠিকি বলেল,কিন্তু দেশের সাধারণ জনগণের জন্য কোনরকম সাহায্য করেননি তিনি আবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক একতরফা কথাও বলেন। এই রকম মুখস্থ বক্তব্য দেশের উন্নয়নমূলক কাজে আসবে কিনা জানার প্রয়োজন টুকু মনে করেন না তিনি।

গত ৩ জুলাই রাতে নিখোঁজ হন স্থানীয় দৈনিক কুষ্টিয়ার খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং আমাদের নতুন সময় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রুবেল। ৭ জুলাই গড়াই নদী থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ। প্রায় পাঁচ মাস ২৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তার হত্যার মূল আসামি গ্রেফতার হয়নি। যখন সাংবাদিক রুবেল হত্যার বিষয়ে নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় তখন নিশ্চুপ ছিলেন সাংবাদিক ইলিয়াস। নিজের ফেসবুক পেজে বড় বড় ভাষণ দিয়েছেন কথা বলেন একজন সাংবাদিকের লেখনির মাধ্যমে দেশের উপকার হবে এটাই দেশের সাধারণ জনগণ প্রত্যাশা করেন। সংবাদ প্রকাশ করে যদি দেশের উপকারে না আসে বাইরের দেশে বসে ভাষণ দিয়ে লাভ কি । একজন সাংবাদিক কখনো মৃত্যুকে ভয় পায় না দেশে শত শত সাংবাদিক নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশের মানুষের কল্যাণে, কখনোই দেশের বাইরে পালিয়ে থাকে নি।

কাঙাল হরিনাথের মাটিতে এই প্রথম কোনো সাংবাদিক হত্যা হয়েছে যার কোনো সুরাহ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়াবাসী এক অন্যরকম আতংকের মাঝে বসবাস করছেন আর চারদিকের গুঞ্জন ছড়িয়েছে, এই দেশে সাংবাদিক যদি সুরক্ষা না পাই সে দেশের সাধারণ জনগণের কি হবে। মনে পড়ে  ১৯৭১ সালের সেই সাংবাদিক সেলিনার কথা।

চারিদিকে তখন চলছে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ, প্রতিরোধ৷ চারপাশে শুধু বুলেটের শব্দ আর বারুদের গন্ধ, চিৎকার,শিলালিপির উপরও নেমে আসে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর খড়্গ৷ হাসেম খানের প্রচ্ছদ করা একটি শিলালিপির প্রকাশিতব্য সংখ্যা নিষিদ্ধ করে দেয় পাকিস্তান সরকার৷ পরে অবশ্য প্রকাশের অনুমতি মিললো তবে শর্ত হলো নতুনভাবে সাজাতে হবে৷ সেলিনা পারভীন বরাবরের মতো প্রচ্ছদ না নিয়ে তাঁর ভাইয়ের ছেলের ছবি দিয়ে প্রচ্ছদ করে আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে শিলালিপির সর্বশেষ সংখ্যা বের করেন৷ কিন্তু এর আগেই সংখ্যার জন্যই সেলিনা পারভীন পাকিস্তানী ও তাদের দালালদের নজরে পড়ে যান৷ যেটাতে ছিল দেশ বরেণ্য বুদ্ধীজীবীদের লেখা এবং স্বাধীনতার পক্ষের লেখা৷ তাই কাল হলো৷ শিলালিপির আরেকটি সংখ্যা বের করার আগে নিজেই হারিয়ে গেলেন৷

১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর আলবদর বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। ১৮ ডিসেম্বর সেলিনা পারভীনের ক্ষত বিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায় রায়েরবাজার রক্তাক্ত ভূমিতে৷ এই রকম শত শত সাংবাদিক হত্যার ঘটনা আছে যা বলে হয়তো শেষ করা যাবে না। কিন্তু সাংবাদিক ইলিয়াস সরকার বিরোধী এজেন্ট হয়ে কাজ  করছে এমন ধারণা দেশের জনগণ বুঝতে পেরেছে। এমনকি দেশের চরন সাংবাদিকদেরকে সে সরকারের পোষা দালাল বলেন।

 

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর