পূর্ব শত্রুতার জেরধরে ইটের ভাটায় ভাংচুর ও লুটপাট : ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেটের সময়। সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১৬৭ টাইম ভিউ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ইটের ভাটায় হামলা চালিয়ে ভাটার কাঁচা ইট,ইট টানার ইঞ্জিত চালিত ট্রলি, পানির মোটর, ইট তৈরির মেশিন,মোটরসাইকেল ভাংচুর করে ও ক্যাশের ড্রয়ার থেকে নগদ টাকা লুটপাট সহ প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করেছে দূর্বৃত্তরা।

শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) আনুমানিক সকাল সাড়ে ৭ টার সময় কুমারখালী উপজেলার মীর মাশাররফ হোসেন সতুর উত্তর পাশে জয়নাবাদ এলাকার (গড়াই ব্রিকস) নামের ইটের ভাটায় এই ঘটনা ঘটে। এঘটনায় গড়াই ব্রিকসের ভাটার মালিকানার একাংশ অংশীদার আব্দুল মজিদ বাদী হয়ে ঘটনার দিন বাদী হয়ে দূর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এজাহার সুত্রে জানা যায়, কুমারখালীর লাহিনী পাড়া এলাকার মৃত খয়বার শেখের পুত্র কাহিনুর ইসলাম (৩৮),একই এলাকার মৃত সাহেব আলীর পুত্র আলতাফ হোসেন (৫৫), শাজাহান হোসেন (৬০), রমজান হোসেন (৫৩), আলাউদ্দিন (৫৮), একই এলাকার শকর আলীর পুত্র ইসমাইল হোসেন (৪৫),আরশেদ আলীর পুত্র মোয়াজ্জম হোসেন (৪৩), শাজাহান আলীর পুত্র সম্রাট হোসেন (৩০),মৃত ফটিক শেখের পুত্র মুক্তার মিস্ত্রি (৫৫),
পাইকপাড়া এলাকার ইসমাইল হোসেনের পুত্র
কাশেম (৫৫), সহ অজ্ঞাত আরও ২০/২৫ জন (গড়াই ব্রিকস) নামের ইটের ভাটায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন রকম দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।এসময় ভাটার ইট তৈরির ৪ টি কাদার মেশিন,যার মূল্য- ৫,০০,০০০/= (পঁাচ লক্ষ) টাকা কুপিয়ে ও ভাংচুর করে ক্ষতি সাধন করে। অন্যদিকে দুইটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে প্রায় ১,০০,০০০/= (এক লক্ষ) টাকা,
ভাটায় থাকা ৩ টি ইট টানা ট্রলি গাড়ির ইঞ্জিন ভাংচুর করে প্রায় ১,০০,০০০/= (এক লক্ষ) টাকা, ইট ভাটার প্রায় ২০ হাজার কাচা ইট ভেঙে প্রায় ১,৬০,০০০/= (এক লক্ষ ষাট হাজার) টাকা,
ইট ভাটার অফিসের ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা ইট বিক্রয়ের নগদ ৩,৮০,০০০/= (তিন লক্ষ আশি হাজার) টাকা লুটপাট, ইট ভাটার ইট পাড়ানোর কিলিম ভাংচুর ও মোটরের পানি দিয়ে ইট নষ্ট করে প্রায় ২,০০,০০০/= (দুই লক্ষ) টাকা সহ মোট ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করেছে।

এছাড়াও ইটের ভাটায় হামলা ও ভাংচুর করার সময় ঠেকাতে গেলে ভাটায় কর্মরত লাহিনী পাড়া এলাকার মত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মিক্সার হোসেন (৩৫), ও ভাটার মিস্ত্রি হালিম (৪৫), নামের দুইজনকে এলোপাতারি মারপিট করে রক্তাক্ত করে দূর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এজাহারকারী আব্দুল মজিদ বলেন, আমাদের সাথে আগে থেকেই তাদের শত্রুতা চলে আসছিলো। তার অন্যতম কারন এই ভাটাটি আমার ভাই মিরাজের নামে ছিলো। আমার ভাই বেঁচে থাকা অবস্থায় তারা মালিকানা দাবি করে মামলা দায়ের করেছিলো। সঠিক কোন প্রমান না থাকায় তারা মালিকানা পাননি। পরে আমার ভাই মিরাজকে গুম করে হত্যা করা হয়। সেই মামলার আসামীও ছিলো হামলাকারীরা। সেই মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর তারা আবারো আমাদের এই ভাটাটি জোরকরে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের ভাটাতে ভাংচুর লুটপাত করে আমাদের প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতি করেছে। আমি সহ আমার ভাটার কর্মচারীদের মারধর করে আহত করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহসিন হোসেন জানান, কুমারখালী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের প্রস্তুতি চলছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর