শিরোনামঃ
এখন টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি সোহেল পারভেজের জন্মদিন আজ কুষ্টিয়া ট্রাফিক অফিস বার্ষিক পরিদর্শন করলেন এসপি খাইরুল আলম সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইবিতে অংশীজনদের সমন্বয় সভা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে ইবি হ্যান্ডবল দল ও বাস্কেটবল দলের (চ্যাম্পিয়ন) পদক গ্রহণ। ইবিতে গ্লোবাল সিটিজেনশিপ এন্ড সিভিক এডুকেশন শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত। দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক গড়ার প্রত্যয়ে আইএফআইসি ব্যাংক বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পালিত হলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। জনবাণী পত্রিকায় কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেলেন সাংবাদিক হৃদয় কুষ্টিয়ায় ফুল বিক্রেতার গলা কাটা লাশ উদ্ধার ইবি’র ৪৩ বছর পূর্ণ হচ্ছে কাল

নরসিংদীতে অতি মুনাফাখোর সুদি আসাদুজ্জামানের খপ্পরে পড়ে সর্ব শান্ত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেটের সময়। রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৯৫ টাইম ভিউ

নরসিংদীর বেলাবতে অতি মুনাফাখোর সুদি আসাদুজ্জামান আসাদের খপ্পরে পড়ে উপজেলার প্রায় অর্ধ শতাধিক ব্যবসায়ী ব‍্যবসা-বানিজ‍্যসহ ভিটেমাটি খোয়া দিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার মাটিয়াল পাড়া (বাগান বাড়ি) এলাকার আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রেজু মুন্সির ছেলে আসাদ দীর্ঘদিন ধরে মেসার্স চিশতী পোল্ট্রি এন্ড ফিসফিড ব্যবসার আড়ালে এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের প্রলোভন দেখিয়ে সুদে টাকা দিয়ে তাদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে সর্বশান্ত করে আসছে। তার পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে ব্যবসায়ীরা সহায় সম্বল ও ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে উপজেলার শিমুলতলী, চন্দনপুর বটেশ্বরসহ বেশ কয়েক এলাকা ঘুরে ভুক্তভোগী ব‍্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুদি আসাদ এলাকার বিভিন্ন ব্যাবসায়ীদের টার্গেট করে তার নিয়োগকৃত দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রলোভন দেখিয়ে স্বল্প সুদে টাকা নিতে উৎসাহিত করে। পরে টাকা নেওয়ার সময় কৌশলে তাদের কাছ থেকে জামানতের নামে স্বাক্ষর করা সাদা চেক ও রেভিনিউ স্ট্যাম্প গচ্ছিত রাখে। এরপরই তার আসল রূপ বেরিয়ে আসে। সে সাদা স্ট্যাম্পে তার ইচ্ছেমত টাকার অঙ্ক বসিয়ে ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে কয়েকগুণ অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। আর তার চাহিদা মাফিক সেই টাকা দিতে কেউ অস্বীকৃতি জানালে তার কাছে থাকা স্বাক্ষর করা চেকে মোটা অংকের টাকা ও তারিখ বসিয়ে তা ব‍্যাংক ফেরত দেখিয় ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা ঠুকে দেন। আর এভাবেই একের পর এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে টাকার পাহাড় গড়ে তোলে কোটি কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক বনে যান।
সুদি আসাদের চেক জালিয়াতির শিকার হওয়া
চন্দনপুর গ্রামে মৃত খন্দকার গোলাম মোস্তফার ছেলে সুজন খন্দকার নামে এক যুবক বলেন, ‘আমি ব্যবসায়ীক কাজে আসাদের কাছ থেকে স্বাক্ষরিত দুটি সাদা চেক ও স্ট‍্যাম্প জমা রেখে মাসিক ৫০ হাজার টাকা সুদে ১০ লাখ টাকা আনি। কিছুদিন যেতে না যেতেই সে আমার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। পরে তার প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ৫ মাসে সুদ সমেত ১৭ লক্ষ টাকা দিয়ে বিষয়টি আপোষ মিমাংসা করে সমুদয় টাকা তার ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করি যার সকল প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। তার সকল টাকা দেওয়ার পরেও সে আমার স্টাম্প ও চেক ফেরত দেওয়া নিয়ে গরিমসি করতে থাকে। পরবর্তীতে আমার কাছ পুনরায় ২০ লাখ টাকা দাবি করে। আমি দাবীকৃত সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলে সে তার সুদি ব্যবসায়ীক পার্টনার ইয়াবা মামলার আসামী হারুনের যোগ সাজশে ৪৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা দাবি করে গচ্ছিত একটি চেক ব‍্যাংক ফেরত দেখিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে। সেই মামলা আদালত থেকে দ্রুত গ্রেফতারি পরোয়ান বের করিয়ে আমাকে গ্রেফতার করায়। একদিন কারাবাসের পর ২৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদালতে জামানত হিসেবে জমা দিয়ে জামিনে মুক্ত হই। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অপর চেকটিতে ৩৭ লাখ ৪০ টাকার অংক বসিয়ে তাইজুল ইসলাম নামে তার অপর এক সহযোগীকে দিয়ে ওই টাকা দাবী করে উকিল নোটিশ পাঠায়। আমি তার বিরুদ্ধে আদালতে একটি জালিয়াতি মামলা দায়ের করেছি। এই আসাদ আমার মতো বহু ব্যবসায়ীকে পথে বসিয়ে দিয়েছে খোঁজ নিলে তা জানতে পারবেন।’
একই এলাকার সুমন খন্দকার অপর এক যুবক বলেন, আমি আসাদের কাছ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভে এনে সুদে-আসলে ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও সে এখনও আমার চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত দেয়নি। বর্তমানে সে আরো টাকা দাবি করে আমাকে হয়রানি করছে।

বটেশ্বর গ্রামে ব্যাবসায়ী খলিলুল্লাহ তপন বলেন, আমার দোকান থেকে পোল্ট্রি ফিড নেওয়ার সুবাদে আসাদের যাতায়াত ছিল। সেই সুবাদে একদিন সুযোগ বুঝে সে আমার স্বাক্ষর করা একটি চেক ক‍্যাশ ডয়ার থেকে চুরি করে নিয়ে যায়। পরে সেই চেক দিয়ে আমার কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা দাবি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় ১৫ লাখ টাকা দিয়ে তার সাথে আপোষ মীমাংসা করি।
তিনি বলেন, এলাকায় সুদি আসাদ নামে পরিচিত এভাবে সে বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারণা করে অল্প সময়ের মধ্যেই কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। তার মামলার ফাঁদে পড়ে অনেক ব্যাবসায়ী বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। আবার অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
আনোয়ার হোসেন সবুজ নামে অপর এক ব‍্যক্তি বলেন, আমার পিতার মৃত্যুর পর আসাদ পিতার ঋণ বাবদ আমার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করে। আমি তার কাছে সেই ঋণের প্রমান চাইলে সে কোন ধরনের প্রমান দিতে পারেনি। পরে একদিন বেলাব বাজার থেকে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে জোরপূর্বক তার গড়ে তোলা টর্চার সেলে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমাকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বললে আমি রাজি না হওয়ায় আমাকে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এই নির্যাতনে পরে ১৫ দিন আমাকে হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে।
কাউছার আহমেদ চপল নামে আরেক ব‍্যক্তি বলেন, আমি আসাদের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা সূদে নিয়ে এ পর্যন্ত আড়াই লাখ টাকা দিয়েও তার জাল থেকে মুক্ত হতে পারিনি। সে আরো টাকার জন্য আমাকে চাপ দিচ্ছে। টাকা না দিলে আমার নামে মামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
মো. ওমর ফারুক নামে একব‍্যক্তি বলেন, ‘আমি গত ৩ মাস আগে আসাদের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা সুদে এনে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা সুদ পরিশোধ করি।সে বর্তমানে আমার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দাবি করছে। টাকা না দিলে আমার নামে মামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
বাজনাব ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য করিম খন্দকার বলেন, সুদি আসাদের পাতানো ফাঁদে পড়ে বহু ব্যাবসায়ী আজ ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে এলাকাবাসী অসহায়। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষতো দূরের কথা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরাই মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে সে তাকে পুলিশ ও

লালিত বাহিনী দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে।
সুজন খন্দকারকে সাথে নিয়ে উকিল নোটিশ পাঠানো তাইজুল ইসলামের সাথে দেখা করে যার নামে তিনি উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে সেই সুজনকে তিনি চিনেন কিনা জানতে চাইলে তিনি এর কোন সদোত্তর না দিয়ে এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে কেটে পড়েন।
সুদি আসাদকে আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বিষয়ে জানতে বেলাবো উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইব্রাহিম বাদলের মোবাইল ফোনে ফোন করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।তিনি বলেন, আসাদের সাথে হয়তো আমার চেনা জানা আছে তবে তার সুদের ব্যবসার বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আসাদের সাথে কথা বলতে বেলাবো বাজার গিয়ে ভুক্তভোগীদের নাম বললে সকলের হিসাব তার খাতায় লেখা আছে। সেই হিসাব দেখানোর জন্য দোতলায় দোকান ঘরের মত অফিসে নিয়ে যান অফিসের তালা খুলতেই বুঝতে আর বাকি রইল না গত ১০-১৫ দিনের মধ্যে এটি খোলা হয়নি। অফিসে ঢুকে আসাদ বিভিন্ন খাতা খুলে হিসাব দেখাতে থাকে। এ সময় আসাদ বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এলপি গ্যাস সাপ্লাই দেওয়ার কথা বলে সুজন তার কাছ থেকে টাকা নেয়। টাকা নেওয়ার সময় তাদের মধ্যে চুক্তি ছিল ব্যবসার পুরো মূলধন আসাদ দিবেন এবং এলপি গ্যাসের বোতলপ্রতি লাভের ৮০ টাকা থেকে ৬০ টাকা আসাদকে দেওয়া হবে এবং বাকি ২০ টাকা সুজন নিবে। কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লাভের ৮০ টাকা থেকে ৬০ টাকা মূলধন বিনিয়োগকারীকে দিয়ে দেওয়া হয় এমন নজির আছে কিনা তার এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিলে। আমাদের মধ্যে যেটা চুক্তি হয়েছিল আমাকে তো সেটাই দিবে এর বাইরে আমি কিছু জানি না।
খাতা খুলে সুজনের সাথে এলপি গ্যাসের ব‍্যবসার লেনদেনের তারিখ দেখানো হয়েছিল ২০২০ সালের বিভিন্ন সময়। অথচ খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে ওই সময় সুজন কোন ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল না বরং সে একটি মাল্টিন্যাশনাল এনজিও’র কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীসহ ও নেতৃস্থানীয় বিভিন্ন লোকজন প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে অবিলম্বে সুদখোর এই আসাদকে আইনের আওতায় এনে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

 

 

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর