শিরোনামঃ
কুষ্টিয়া শহরের ১০ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত ভেড়ামারায় পুলিশের অভিযান… ৫ মাদকসেবী ও পলাতক আসামীসহ ১২ জন গ্রেপ্তার বঙ্গবন্ধু হত্যার মতো জঘন্যতম ঘটনা বিশ্বের বুকে দ্বিতীয়টি আর ঘটেনি পুলিশ কেস সিল মারায় কুষ্টিয়ায় ডাক্তারকে মারধরের অভিযোগ কন্যাদায়গ্রস্থ পরিবারকে সাহায্য করলো রোটারি অফ ঢাকা ব্রাইট কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের অভিযানে টাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ইবিতে জাতীয় শোক দিবস পালিত একটি অসম প্রেমের অকাল সমাপ্তি ছাত্রকে বিয়ে করা সেই শিক্ষিকা আত্মহত্যা করেছেন কুষ্টিয়া র‌্যাবের অভিযানে ২৮ বোতল ফেনসিডিল সহ ০১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কুষ্টিয়ায় ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট নাজমুলের হাতে ভুয়া এডিসি (ডিএমপি) ডিবি আটক

কুষ্টিয়া বিএডিসির যোগ সাজসে বাগুলাট সেচ প্রকল্পের পানি নিতে বিঘা প্রতি দিতে হয় ঘুষ

সহ-সম্পাদকঃ
  • আপডেটের সময়। রবিবার, ২৭ মার্চ, ২০২২
  • ২২০ টাইম ভিউ

 

মোঃ রবিউল ইসলাম হৃদয় :
কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের দুধকুমড়া এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পটিতে দূর্নিতী করে অবৈধভাবে কৃষকদের কাছ থেকে বিঘা প্রতি নেওয়া হচ্ছে মোটা অংকের ঘুষ। প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার যোগ সাজসে কৃষকদের নিকট থেকে প্রতি বিঘা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা নিচ্ছেন দুধকুমড়া মাদরাসা পাড়া এলাকার মৃত ময়েন উদ্দিনের ছেলে মোজাফফর হোসেন নিজাম।

সুত্রে জানা যায়,২০১৭ সালে প্রকল্পটি দুধকুমড়া নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে নির্মান করা হয়। গ্রামের কৃষকরা এই সেচ প্রকল্পের উপর নির্ভরশীল।যে স্থানে প্রকল্পটি নির্মান করা হয়েছে সেটি নিজামের পৈএিক সম্পত্তি বলে দাবি করে তিনি প্রকল্পটির সব কাজ করেন। প্রকল্পটি পরিচালনা করার জন্য দায়িত্বে একজন সরকারী কর্মচারী থাকলেও কোন এক অদৃষ্য কারনে নিজাম নিজেই সবকিছু পরিচালনা করে আসছে। এই প্রকল্পে দায়িত্বে থাকা এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন এ মৌসুমে পিয়াজ, গম ও ভূট্টার সেচ সময় মত দিতে ব্যর্থ হয়েছে।বর্তমানে প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৫০০ বিঘা কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে।আর এসব জমির মালিক কৃষকদের কাছ থেকে নিজাম প্রতিনিয়ত বিঘা প্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা কোন রসিদ ছাড়াই নিয়ে আসছে। কোন কৃষক যদি চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দেয় তাহলে পাম্প বন্ধ করে রাখা হচ্ছে। বছরে প্রায় ৪ বার করে জমিতে পানি নেয় কৃষকরা। ধান,গম এবং ভুট্টোর সময়েও পানি নেওয়া লাগে সেচ প্রকল্প থেকে। এখন বিশেষ ভাবে ভূট্টার জন্য সেচের বিশেষ প্রয়ােজন।এসব কর্মকান্ডের সাথে সেচ প্রকল্পের ইনচার্জ ও বিএডিসির কর্মকর্তারাও জড়িত বলে অভিযোগ বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। তার অন্যতম কারন কৃষকরা নিজামের কাছে সেচের ফির তালিকা,টাকা গ্রহনের রশিদ ও প্রকল্প পরিচালনা পরিষদ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেলো কিন্তু তিনি সেই সম্পর্কে জানান নাই। এ ছাড়াও বিভিন্ন অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে সে সেচ প্রকল্পটি বন্ধ রাখে। সেচ প্রকল্পটি বন্ধ থাকায় কৃষকদের ফসলের অপুরনীয় ক্ষতি হচ্ছে। এই বিষয় নিয়ে কুষ্টিয়া বিএডিসি অফিসে এজটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে কৃষকেরা।

একাধিক সুত্রে জানা যায়, বর্তমান ডিজিটাল যুগ অনুযায়ী প্রত্যেক সেচ প্রকল্পে প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে কারেন্ট বিল নেওয়া হয়। কৃষকেরা প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু পানি সরবরাহ করবে। কিন্তু এখানে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা নেওয়াটা অবৈধ বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী কৃষক রুস্তম জানান, আমরা বছরে ৩-৪ মৌসুমী সেচ প্রকল্প থেকে পানি নিই। এবার ধান,ভুট্টো ও পেয়াজ চাষের সময়ও অনেক পানি নেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছ থেকে বিঘা প্রতি ৫০০-৭০০ করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার নিজামের সাথে মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বিএডিসি থেকে লিজ নিয়েছি। আমার অনেক কর্মচারী কাজ করে। আর এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিলও দেওয়া লাগে। এই জন্যই আমি টাকা নিয়ে থাকি। টাকা নেওয়া আমার বৈধতা আছে। টাকা নেওয়ার রশিদ বিএডিসি আমাকে দেয়নি তাই আমিও দেয়নি।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কৃষকরা আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমরা একটি মিটিং ডেকে বিষয়টি দেখবো। এ ছাড়া বাগুলাট সেচ প্রকল্পে বছরে ২০ হাজার টাকা সরকারি রাজস্ব দেওয়ার স্কিম রয়েছে। এভাবে কেনো কৃষকদের থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে সেটাও দেখা হবে।

বিষয়টি নিয়ে কুষ্টিয়া বিএডিসির পিডির সাথে যোগাযোগ করার জন্য বেশ কয়েকবার তার অফিসে গিয়ে দেখা মেলেনি এবং তার মোবাইল ফোনে ফোন দিলেও তিনি রিসিভড করেননি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর