শিরোনামঃ
সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইবিতে অংশীজনদের সমন্বয় সভা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে ইবি হ্যান্ডবল দল ও বাস্কেটবল দলের (চ্যাম্পিয়ন) পদক গ্রহণ। ইবিতে গ্লোবাল সিটিজেনশিপ এন্ড সিভিক এডুকেশন শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত। দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক গড়ার প্রত্যয়ে আইএফআইসি ব্যাংক বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পালিত হলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। জনবাণী পত্রিকায় কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেলেন সাংবাদিক হৃদয় কুষ্টিয়ায় ফুল বিক্রেতার গলা কাটা লাশ উদ্ধার ইবি’র ৪৩ বছর পূর্ণ হচ্ছে কাল প্রতারণার মাধ্যমে টাকা তুলে নেয়ায় দিশেহারা দরিদ্র শাজাহান কুষ্টিয়া হরিপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম : টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই

একাত্তরের পরাজিত শক্তি এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • আপডেটের সময়। মঙ্গলবার, ২২ মার্চ, ২০২২
  • ১৬৯ টাইম ভিউ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশকে গড়ার জন্য জাতির পিতা যখন কাজ শুরু করেছিলেন তখন থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর সরকারকে উৎখাত করা, বিপর্যস্ত ও ব্যর্থ প্রমাণিত করার জন্য দেশে-বিদেশে চক্রান্ত হয়েছে। যার ফলে পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। একাত্তরের সেই পরাজিত শক্তি এখনো সুযোগ পেলে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

মঙ্গলবার (২২ মার্চ) ধানমন্ডির একটি কনভেনশন হলে দেশের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং কৃত্রিম উপায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিকারী সিন্ডিকেটের শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট আয়োজিত এক সুধী সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, কারো দয়ায় বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হয়নি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা ঘোষণা, ৬৯’র গণআন্দোলন এবং ৭০ এর নির্বাচনে জনগণের নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট পাওয়ার পর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানকিভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ ঘোষণা করেছিলেন। সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন ৭ই মার্চ।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের উন্নয়ন চোখে দেখে না। যার কারণে প্রেস ক্লাবের সামনে মির্জা ফখরুলরা প্রতিদিন ভাঙা রেকর্ড বাজাচ্ছেন। তারা বলেন, মেগা প্রজেক্টের নামে নাকি মেগা দুর্নীতি হচ্ছে। এসব বলার কারণ তারা দেশের উন্নয়ন করতে পারেনি। ক্ষমতায় থাকতে একটা ভালো কাজ করতে পারেনি। হাওয়া ভবন, খাওয়া ভবন করে তারা লুটপাট আর মানুষ খুন করেছে। এছাড়া আর কিছু করতে পারেনি।

আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে র‌্যাবের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিএনপি প্রতিদিন এটা নিয়ে কথা বলে। এরা কোন লজ্জায় এসব বলে। নিষেধাজ্ঞা তারেক রহমানকে দেয়া হয়েছিলো, সেটাও তো এখনো প্রত্যাহার হয়নি। এদের কোনো লজ্জা নেই। মিথ্যাচার করা, নিজের অপকর্ম নির্লজ্জভাবে ঢেকে রেখে অন্যকে অভিযুক্ত করে বক্তব্য দেয়াই তাদের কাজ। রাজনীতিবিদের গুণ হচ্ছে দেশের জন্য কাজ করা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা। দেশের মানুষের ক্ষতি করে এমন কোনো কাজ সুস্থ মাথার নেতৃত্ব করতে পারে না। বেগম খালেদা জিয়া দেশের গার্মেন্টস খাতককে ধ্বংস করার চক্রান্ত করেছেন। গার্মেন্টস শিল্পের জিএসপি প্রত্যাহার করার জন্য আমেরিকাতে চিঠি লিখেছেন। প্রতিপক্ষকে বিপাকে ফেলার জন্য এতো নোংরা মানসিকতা তাদের না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।

হানিফ বলেন, করোনার মহামারির কারণে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি পুরো পৃথিবীতে হয়েছে। আর তার প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত ১০ বছরের জিনিসপত্রের দাম ১২৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদশের মানুষের আয় যখন ৬০০ ডলার ছিলো। এখন মাথাপিছু আয় ২৬০০ ডলার। মানুষের আয় বেড়েছে, দাম তো বাড়বেই। আগে দৈনিক ১০০ টাকা মজুরি ছিলো। তিন কেজি চাল কিনলে টাকা শেষ হয়ে যেতো। তেল, লবণ কেনার ক্ষমতা থাকতো না। এখন তো ৫০০ টাকার নিচে দৈনিক মজুরি নেই। তিন কেজির চালের দাম দেড়শো টাকা হয়। তেল, লবণ, ডাল কিনেও ১০০ টাকা থাকে। মানুষ ৪০০ টাকার মধ্যে তিন বেলা মুরগির মাংস দিয়ে পেটভরে খেতে পারছে। এটা সম্ভব হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার কারণে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, দুঃস্থ ভাতা দিয়ে গ্রাম বাংলার অসহায় মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। ১৫ বছর আগেও গ্রামে মানুষ শাড়ির জন্য লাইন দিতো। গরিব মানুষ তালি দেয়া লুঙ্গি, শাড়ি পরতো। গ্রামে এখন এসব দেখা যায় না। এসব সরকারের কারণেই তা সম্ভব হয়েছে। বিএনপি সরকারের আমলে বিদেশিরা আমাদেরকে তাচ্ছিল্য করে বলতো, বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে চলে গেছে। আর এখন জিজ্ঞেস করে কিভাবে এতো সীমিত সম্পদ নিয়ে এতো উন্নয়ন হয়েছে। ম্যাজিক কি? আমাদের ম্যাজিক হচ্ছে শেখ হাসিনা। তার দক্ষ নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা, দৃঢ়তার কারণে আজকে আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছেছি।

জামায়াতে ইসলামী দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে হানিফ বলেন, যারা জাতীয় সংগীত মানে না, জাতীয় পতাকা মানে না তারা জাতির পিতাকেও মানে না। ২০১৬ সালের দিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় আলেমদের একটি সমাবেশে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, জাতির পিতাকে মানতে আপনাদের সমস্যা কোথায়? কেউ কথা বলে না। আমি বললাম, আপনাদেরকে বলতে হবে। কারণ আপনারা ওয়াজ, মাহফিলে কথা বলেন। একজন বললেন, আমাদের মুসলিমদের একজন জাতির পিতা আছেন, হযরত ইবরাহীম (আ.)। জিজ্ঞেস করলাম, পাকিস্তানের জাতির পিতা ছিলো মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। তাকে মানতে আপনাদের কোনো অসুবিধা হয়নি। এই দ্বিচারিতা, মিথ্যাচারটা জামায়াতে ইসলামী ধর্মের দোহাই দিয়ে সৃষ্টি করেছে। তারা ধর্মকে অপব্যাখ্যা করে। আমাদের অল্পশিক্ষত মানুষকে ধর্মান্ধ করার চেষ্টা করছে। তারা দেশের বিরুদ্ধে অতীতেও ষড়যন্ত্র করেছে এবং এখনো করছে। আর এদের দোসর বিএনপি।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সৃষ্টি হচ্ছে মৌলবাদীদের মাধ্যমে আর বিএনপির সৃষ্টি হয়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের মাধ্যমে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ছিলো পাকিস্তানিদের এজেন্ট। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে জিয়া যেসব কাজ করেছিলেন, তার প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ড ছিলো পাকিস্তানের পক্ষে। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করেছেন। কুখ্যাত রাজাকারকে প্রধানমন্ত্রী, রাজাকারদের মতো লোকদের মন্ত্রীসভায় জায়গা করে দিয়েছেন। সে সময় নিষিদ্ধঘোষিত জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। হত্যা, ধর্ষণে অভিযুক্ত হয়ে সাড়ে ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধী কারাগারে ছিলো, তাদেরকে দালাল আইন বাতিল করে তিনি মুক্ত করে দিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের নির্বিচারে হত্যা করেছেন। যে জয় বাংলা শুনলে রাজাকার, পাকিস্তানিরা ভয় পেতো তিনি সেই স্লোগান নিষিদ্ধ করে নিয়ে আসলেন পাকিস্তান জিন্দাবাদ।

সকল অপপ্রচার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই, জাতির পিতা আমাদেরকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, সেই স্বপন্ন পূরণের লক্ষ্যে ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনার একটা উন্নত আত্মমর্যাদাশীল দেশ গড়ার। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল ষড়যন্ত্র ভেদ করে, মোকাবেলা করেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এমপি, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ, জমিয়াতুস সাহাবা মাদরাসার প্রিন্সিপাল রুহুল আমীন খান ও উজানী মাদরাসার শিক্ষা সচিব আবদুর রহমান প্রমুখ।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর